Thursday, March 7, 2019

(2) লিভার সুস্থ রাখার পরিচিত কিছু শাক-সব্জি ও ফলমূল




                 সুস্থ লিভার সুস্থ জীবন

আমাদের দেহের সবচেয়ে বড় অঙ্গ লিভার। যার ওজন প্রায় তিন পাউন্ড। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা , হজমশক্তি এবং পুষ্টিধারণসহ আমাদের দেহের অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে এই লিভার । তাই দেহের সুস্থতার জন্য লিভারের সুস্থতা খুবই জরুরি । এটি রক্তনালী থেকে ক্ষতিকর পদার্থ বের করে দেয় এবং খাদ্য পরিপাকে সহায়তা করে, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন লিভারের ওপর খারাপ প্রভাব ফেলে। ওজন বৃদ্ধি, হৃদরোগ, দীর্ঘ সময় ক্লান্তি অনুভব করা, হজমের সমস্যা, এলার্জি ইত্যাদি এই সমস্ত অসুখ দেখা দিতে পারে অসুস্থ লিভারের কারণে।



 তাই দেহ ও লিভার সুস্থ রাখার জন্য চিনে নিন এমন কিছু খাবার যা সুস্থ রাখবে আপনাকে-



1) পাতিলেবুর রস:

লেবুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান লিভার পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে এবং ডি লিমনেন উপাদান লিভারে এনজাইম সক্রিয় করে। প্রতিদিন লেবুপানি পান করুন, চাইলে মধুও মিশিয়ে নিতে পারেন


2) সবুজ শাক:

সবুজ শাকে এমন কিছু উপাদান রয়েছে যা আমাদের দৈনন্দিন অন্যান্য খাবারে থাকা রাসায়নিক পদার্থ এবং কীটনাশকের সামঞ্জস্যতা রক্ষা করে থাকে যা লিভারের জন্য বেশ উপকারী ।


3) শালগম:

মুলো জাতীয় শালগম শীতকালীন সবজি হিসেবে পরিচিত। এটি এক প্রকার রূপান্তরিত মূল এবং মাটির নিচের অংশ খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়, শালগমে প্রচুর পরিমাণে উদ্ভিজ ফ্ল্যাভোনয়েড রয়েছে যা লিভারের সার্বিক কাজে সহায়তা করে থাকে


4) রসুনের কোয়া:

লিভার পরিষ্কার রাখার জন্য উত্তম খাবার হল রসুন। রসুনের এনজাইম লিভারের ক্ষতিকর টক্সিক উপাদান পরিষ্কার করে। প্রতিদিন যে কোন সময় ২/৩ টি রসুনের কোয়া খেয়ে নিন।



5) হলুদ:


মূল্যবান অ্যান্টি অক্সিডেন্টে ভরপুর হলুদ লিভারের স্বাস্থ্য রক্ষা করে থাকে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে হেপাটাইটিস বি এবং সি এর ভাইরাস নির্মূলেও এই হলুদ অত্যন্ত সহায়ক। শরীরে হজমে এবং পিত্তথলী পরিস্কার রাখতে সহায়তা করে হলুদ।


 6) আমলকী:

আমলকী হল আমাদের দেহের জন্য সব চাইতে উপকারী ভেষজের মধ্যে একটি। এটি আপনি প্রতি দিনই খেতে পারেন এবং এর কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। বরং আছে দারুণ সব উপকার। আমলকীর অনেক গুণাগুণ রয়েছে। আমলকী লিভারের স্বাস্থ্য রক্ষা করে এবং হজমে সহায়তা করে।


7) আপেল:

আপেল অতি পরিচিত একটি ফল। এটি বহু গুণে গুণান্বিত। আপেলের রয়েছে নানাবিধ পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা। আপেলের পেক্টিন, ফাইবার দেহের পরিপাক নালী হতে টক্সিন ও রক্ত হতে কোলেস্টরোল দূর করে এবং সাথে সাথে লিভারকেও সুস্থ রাখে। তাই লিভার সুস্থ রাখতে প্রতিদিন ১ টি করে আপেল খান।


8) জাম্বুরা (বাতাবি লেবু):

জাম্বুরা ফলটি সরাসরি বা জুস করে খেলে তা ক্যান্সার উৎপাদক উপাদান এবং টক্সিন নির্মূলে লিভারকে সহায়তা করে থাকে। এই ফলটিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টি অক্সিডেন্ট রয়েছে যা লিভারের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

Thursday, December 20, 2018

(1) লিভার নষ্টের কারণ সমূহ:

লিভার নষ্টের ৯ টি কারণ জেনে নিন-


          মানুষের দেহের প্রধান অঙ্গপ্রত্যঙ্গ গুলোর মধ্যে অন্যতম হল লিভার। দেহের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় লিভারের সুস্থতা অনেক জরুরী। কিন্তু কিছু খারাপ অভ্যাসে অভ্যস্ত হওয়ার কারণে প্রতিনিয়ত মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয় লিভার। এই কারনেই লিভার ড্যামেজের মতো মারাত্মক সমস্যায় ভুগতে দেখা যায় অনেককেই। এই অঙ্গটি নষ্ট হওয়ার পিছনে কিছু কারণ নিচে দেওয়া হল-



১) অনেকেই সকালে ঘুম থেকে উঠেও অলসতা করে প্রস্রাবের বেগ হলেও বাথরুমে না গিয়ে তা চেপে শুয়ে থাকে। এতে লিভারের উপরে চাপ পড়ে এবং লিভার স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা হারায়।


২) অনেক দেরিতে ঘুমোতে যাওয়া এবং দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা দুটোই লিভার নষ্টের কারণ। এতে শারীরিক প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণ উল্টোটা ঘটতে থাকে এবং মারাত্মক বাজে প্রভাব ফেলে লিভারের উপরে।


৩) সকালে উঠে আমরা অনেক সমায় খাবার না খেয়ে কোনো একটা কাজে ব্যাস্ত হয়ে পরি যা লিভারের পক্ষে খুবই ক্ষতিকর। যেহেতু অনেকটা সময় পেট খালি থাকে আমদের সেই জন্য অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গের পাশাপাশি খাদ্যের অভাবে কর্মক্ষমতা হারাতে থাকে লিভারও।


৪) অতিরিক্ত বেশি খাওয়া দাওয়া ও লিভারের পক্ষে ক্ষতিকর। অনেকেই আবার বহুক্ষণ সময় না খেয়ে একবারে অনেক বেশি করে খেয়ে ফেলেন।এতে হঠাৎ করে লিভারের উপরে চাপ বেশি পরে এবং লিভার ড্যামেজ হওয়ার আশংকা থাকে।


৫) কেমিক্যাল সমৃদ্ধ যেকোনো কিছুই লিভারের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। কিন্তু আলসেমি ও মুখের স্বাদের জন্য আমরা অনেকেই সংরক্ষক খাবার, আর্টিফিশিয়াল ফুড, আর্টিফিশিয়াল চিনি ইত্যাদি খাওয়ার অভ্যাস আমাদের মধ্যে প্রায় থেকে থাকে যা লিভার নষ্টের অন্যতম কারণ।


৬) অনেক বেশি ঔষধ খেলে লিভারের ক্ষতি হয়৷ বিশেষ করে ব্যথানাশক ঔষধের জেরে লিভারের কর্মক্ষমতা হ্রাস পায়ে। এছাড়াও ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকার কারনেও ক্ষতি হয় লিভারে। এতে করে লিভার ড্যামেজ হয়ে যাওয়ার আশংকা দেখা দেয়।


৭) মদ্য পান করা লিভার নষ্টের আরেকটি প্রধান কারণ। অ্যালকোহলের ক্ষতিকর উপাদান সমূহ লিভারের মারাত্মক ক্ষতি করে।


৮) কাঁচা জাতীয় খাবার খাওয়াও লিভারের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। যেমন আপনি যদি খুব বেশি কাঁচা সবজি খেতে থাকেন তাহলে তা হজমের জন্য অতিরিক্ত কাজ করতে হয় পরিপাকতন্ত্রের। এর প্রভাব পড়ে লিভারের উপরেও। সুতরাং অতিরিক্ত কাঁচা খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।


৯) অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার লিভারের জন্য ক্ষতিকর। একই তেলে বারবার ভাজা খাবার বা পোড়া তেলের খাবার বেশি পরিমাণে খাওয়া হলে লিভার তার স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা হারাতে থাকে।


                  উপরিউক্ত কারণগুলি লিভারকে অসুস্থ করার জন্য যথেষ্ট। তাই আমাদের নিজেদের শরীরকে যত্ন নিতে দৈনিন্দিত জীবনের কার্যসূচি পরিবর্তন করলেই আমরা আমাদের লিভারকে সুস্থ রাখতে পারি।