সুস্থ লিভার সুস্থ জীবন-৪
লিভার
শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। সুস্থ
থাকতে লিভারের খেয়াল রাখতেই হবে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই লিভার খারাপ হওয়ার কারণ হয়
কিছু বদ অভ্যাস।
আপনি কিভাবে বুঝবেন লিভার নষ্ট হয়ে যাচ্ছেঃ
লিভার বা যকৃত আমাদের শরীর থেকে
ক্ষতিকর টক্সিন বাহির করে দেয় ।যার জন্য এই অঙ্গটিতে ইনফেকশনের ঝুঁকি থাকে। তাই
লিভার ডিজিজ বা হেপাটাইটিস প্রতিরোধের জন্য লিভারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা
জরুরী। লিভার কখন কিভাবে নষ্ট হয় তা জানতে পারলে এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গকে বাঁচানো
সম্ভব।আসুন জেনে নেওয়া যাক কখন আমাদের লিভার নষ্ট হয়।
আমাদের পেটের উপরের দিকের ডানপাশে যকৃত বা লিভার অবস্থিত।
শরীরের এই অংশে ব্যথা বা অস্বস্তি হলে তা লিভার ড্যামেজের লক্ষণ।এটি পেট ফাঁপার
সমস্যা দেখা দেয় যা লিভার ফুলে যাওয়াকে নির্দেশ করে। এই রকম লক্ষণ প্রকাশ পেলে
দ্রুত ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া দরকার।
২)
পা ফুলে যাওয়াঃ
লিভার ড্যামেজে পা ফুলে যেতে
পারে এবং এই সমস্যাটির বিষয়ে অনেকেই সচেতন থাকে না। যকৃত যদি ঠিক ভাবে বিষাক্ত
পদার্থ শরীর থেকে বাহির করে দিতে না পারে তাহলে সেগুলো শরীরে জমতে থাকে এবং রক্ত
প্রবাহকে বাঁধা দেয়। এই বিষাক্ত পদার্থ গুলো শরীরের বিভিন্ন অংশে জমা হয় এবং এদের
বেশিরভাগই জমা হয় পায়ে। এর ফলশ্রুতিতেই পা ফুলে যায়।
৩) ক্ষুধামন্দাঃ
লিভার সমস্যার প্রধান লক্ষণ
হচ্ছে ক্ষুধা কমে যাওয়া। লিভার ক্ষতিগ্রস্থ হলে দেহে টক্সিক উপাদানের সঞ্চয় হতে
থাকে। যার ফলে ক্ষুধা কমে যায়। এছাড়াও এর ফলে ভিটামিন ও মিনারেলের শোষণ বাধাগ্রস্থ
হয়। পরিণতিতে দুর্বলতা ও অবসাদগ্রস্থ হতে দেখা যায়।
৪) বিবর্ণ প্রস্রাবঃ
যকৃত যখন ঠিকভাবে কাজ করেনা তখন
পিত্ত লবণের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। পিত্ত লবণকে ভাঙ্গার জন্য প্রয়োজনীয় এনজাইমের
অনুপস্থিতিই শরীরে পিত্ত রঞ্জকের উপস্থিতি দেখা যায়। যা মল-মুত্রের সাথে বের হয়ে
যায়। এই রঞ্জকগুলো কিছুটা গাঢ় রঙের হয়। তাই মুত্রের বর্ণ হালকা হলুদ থেকে গাঢ় হলুদ
বর্ণের হয়। এটি লিভার খারাপ হওয়ার একটি বিশেষ লক্ষণ।
৫) বমিঃ
লিভার নষ্টের আরেকটি সাধারণ
লক্ষণ হচ্ছে বমি বমি ভাব এবং বমি হওয়া। লিভাবের বিষাক্ততার জন্যই বদহজম ও পেটের
সমস্যা হয়। যার ফলশ্রুতিতে ক্রমাগত বমি হয়। যদি কোন কিছু খাওয়ার বা পান করার সাথে
সাথে বমি বমি ভাব হয় বা বমি হয় তাহলে তাকে বুঝতে হবে ডাক্তার দেখানো জরুরি।
৬)
চোখের বিবর্ণতাঃ
জন্ডিস বা হেপাটাইটিসের
গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হচ্ছে চোখ ও ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া। বিশেষ করে সকালে চোখের
বিবর্ণতা দেখা গেলে তা লিভার নষ্টের লক্ষণ বুঝায়। তাই চোখের কোন পরিবর্তন গুরুত্ব
সহকারে নেয়া প্রয়োজন। কারণ এর দ্বারা বোঝা যায় আপনার যকৃত ঠিকভাবে কাজ করছেনা।
লিভার সুস্থ রাখার জন্য, শর্করা প্রোটিন ও ফ্যাট গ্রহণের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা গ্রহণ করুন । হেলথি খাবার পরিমিত পরিমানে খান । কোনো মেডিসিন গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্ক হন। এলকোহল গ্রহণের অভ্যাস থাকলে এটাকে নিয়ন্ত্রন করুন। হেলথি লাইফ স্টাইল মেইনটেইন করুন, পরিমিত পরিমানে ঘুমান, হাটা-হাটি , যোগ ব্যায়াম নিয়মিত করুন। আমাদের আগের ব্লগ এ লেখা লিভার সুস্থ রাখার খাবার গুলো বেশি বেশি পরিমানে খান।





No comments:
Post a Comment